দীর্ঘ দিন ধ’রে ক্যা’ন্সারে ভু’গছিলেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। অবশেষে ক্যা’ন্সারের কাছে প’রাজিত হয়েছেন তিনি। সোমবার (০৬ জুলাই) স’ন্ধ্যায় মা’রা গে’ছেন এই খ্যা’তিমান শিল্পী।

এন্ড্রু কিশোরের জ’ন্ম ৪ নভেম্বর ১৯৫৫সালে রাজশাহীতে। তিনি বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের বহু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। যেজন্য তিনি ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত।

তার স’বচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমা’রে, আমা’র সারা দে’হ খেয়ো গো মাটি, আমা’র বুকের মধ্যে খানে, আমা’র বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভে'ঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দুরারো’গ্য ক্যা’ন্সারে আক্রা’ন্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি নামী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমা’রী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত এমিলের গোয়েন্দা বা’হিনী চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মু’ক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চো’র যায় চলে’ গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি অন্যান্য প্লেব্যাক গান রেকর্ড করেন যেমন ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমা’রে’, ‘ভালবেসে গেলাম শুধু’ এর মত জনপ্রিয় সব গান। জীবনে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। তার গাওয়া গান ঘুরেছে মানুষের মুখে মুখে।

এন্ড্রু কিশোরের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম সংজ্ঞা আর দ্বিতীয় জনের নাম সপ্তক। কিশোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা ক’রেছেন। ২০২০ সালের ৬ জুলাই তিনি মা’রা যান। এন্ড্রু কিশোর এছাড়াও একজন ব্যবসায়ী। ১৯৮৭ সালে তিনি বরাবর আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর, দিদারুল আলম বাদল, শামসুল ইসলাম নান্টু সাথে টিভি নাটক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য প্রযোজনার জন্য একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ‘প্রবাহ’ শিরোনামে উদ্বোধন করেন।