করো'না ভা'ইরাসের কারণে দম ফেলার সুযোগ‌ ছিল না মুম্বাইয়ের সিওন হাসপাতালের দুই জুনিয়র ডাক্তারের। প্রেমের ব'ন্ধনকে বিবাহের রূপ দেওয়ার প’রিকল্পনাকে তাই দূ’রেই সরিয়ে রাখতে হয়েছিল। অবশেষে তাঁরা ঠিক করলেন বিয়েটা করবেন। তবে বিবাহবাসর হবে তাঁদেরই ক’র্মস্থল। তাঁদের বিয়ের মেহেদি ও গায়ে হলুদ উপলক্ষে ফুলের সাজে সেজে উঠল হাসপাতালের হোস্টেলের অষ্টম তলা। করো'না র আবহে যখন হাসপাতালে শুধুই কান্নার সুর, তখন আনন্দের এক টুকরো বাতাস বয়ে আনল এই বিয়ের অনুষ্ঠান।

ডা. রিম্পি নাহারিয়া (২৯) ও ডা. সারজে'রাও সোনুনে (৩০)। দুজনেই অ্যানাসথেসিওলজিস্ট। তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৩০ জুন তাঁদের সহপাঠী ব'ন্ধু ডাক্তাররা ফুল-আলোয় সাজিয়ে তুলল হাসপাতাল। অর্ডার দেওয়া বিশেষ ভুড়িভোজে'র। হরিয়ানার কনে এই বিশেষ বিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আম’রা কখনও বিরাট ধূমধাম করে বিয়ে ক’রতে চাইনি। কিন্তু বিয়েতে বিশেষ একটা কিছু ক’রতে চেয়েছিলাম। এই ভাবেই আমাদের ব'ন্ধুরা আমাদের বিয়েটাকে স্পেশ্য়াল করে তুলল।’

দুজনেই তিন বছরের কোর্স শেষ করে এমডি পড়ছেন। রিম্পি ও সারজে'রাও ভেবেছিলেন, মে মাসে ফাইনাল পরীক্ষার পরই বিয়েটা সেরে ফেলবেন। তবে ঠিক সেই সময়েই দেশজুড়ে থা’বা বসায় করো'না ভা'ইরাস। বিয়েটা বা’তিল করে দিতে হয় তাঁদের। ডাক্তার বরের কথায়, ‘যে মহামা’রীতে সারা পৃথিবী আক্রা’ন্ত, তা যে কবে শেষ হবে, কবে এর থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে, তার কিছুই এখনও বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।’

সেই কারণেই তাঁরা বিয়েটা সেরে ফেলার সিদ্ধা’ন্ত নেন। হোস্টেলে মেহেন্দি অনুষ্ঠানের পর ১ জুলাই ভিরারে রিম্পির বাড়ির অ্যাপার্টমেন্টেই খুব ছোট করে শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। ঔরঙ্গাবাদ থেকে এসেছিলেন সারজে'রাওয়ের বাবা ও বউদি। তবে অ্যাস্থমা’র রো’গী হওয়ায় কোভিড প’রিস্থিতিতে আর আসার ঝুঁ’কি নেননি বরের মা। বিয়ের সময় ভিডিয়ো কলেই গোটা অনুষ্ঠান উপভো’গ করেন তিনি। দু দিনের বিয়ের পর্ব মিটিয়ে ফের কর্তব্যে অবিচল দুই ডাক্তার। কাজে যোগ দেন সিওন হাসপাতালে।