আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নয়নের ছোয়া এবং বাংলাদেশের চিকি’ৎসক এ আর খানের সাফল্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশর চিকিৎ’সা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে সম্ভাবনাময় করেছে।

আর সাফল্যকে কাজে লগিয়ে বাংলাদেশে প্রথম অ’স্ত্রোপ’চারে মাধ্যমে জোড়া লা’গানো শি’শুর সফল পৃথকীকরণ করা হয়। এই সাফল্যের ইতিহাস বীরগঞ্জে'র জোড়া লা’গানো জমজ দুই বোন মনি-মু’ক্তা। সেই ইতিহাস ৯ বছর পূর্বে। বাবা-মায়ের কোলে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা মনি মু’ক্তা এখন ১০ বছরে পা দিয়েছে। তারা এখন স্থা’নীয় পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে পা’লন করা হয় মনি-মু’ক্তার জ’ন্মদিন। বিকালে বিদ্যালয় শিক্ষক ও মনি-মু’ক্তার ব'ন্ধুবান্ধবসহ প্রতিবেশীদের উপ’স্থিতিতে কেক কে’টে জ’ন্মবার্ষিকী পা’লন করে পরিবারের লোকজন। জ’ন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যম ক’র্মী দেরও আমন্ত্রণ জা’নানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

মনি ও মু’ক্তা দুজনই সু’স্থ আছে। তারা একে অপরের স’ঙ্গে খেলা করে সময় কাটায়। বেশ সুন্দর করে কথা বলে। নিয়মিত স্কুলে যায় বলে জা’নিয়েছেন তাদের বাবা-মা। জ’ন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে মনি-মু’ক্তা।

দিনাজপুর জে’লার বীরগঞ্জ উপজে’লার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শরৎ চন্দ্র পালের পুত্র জয় প্র’কাশ পাল। জয় প্র’কাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজা'রিয়ান সেকশনে অ’স্ত্রোপ’চারের মাধ্যমে মনি এবং মু’ক্তা জো’রা লা’গা অব’স্থায় জ’ন্ম নেয়।

পরে রংপুরের চিকি’ৎসকগণ ঢাকা শি’শু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অ’স্ত্রোপ’চারের মাধ্যমে পৃথক করার প’রামর্শ দেন। তাদের প’রামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শি’শু হাসপাতালে মনি-মু’ক্তাকে ভর্তি করা হয়। অতঃপর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শি’শু হাসাপাতালে শি’শু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মু’ক্তা ভিন্ন সত্ত্বা লাভ করে। বাংলাদেশের চিকিৎ’সা বিজ্ঞানে সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।

মনি-মু’ক্তার বাবা জয় প্র’কাশ পাল জা’নান, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশপ্ত জীবনের ফসল বলে প্র’চার ক’রতে থাকে। সমাজে'র নানা কুসংস্কারে প্রায় একঘরে হয়ে পড়ি। সমাজে'র নানা অপবাদে গ্রামে আসিনি। হ’তাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মু’ক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চিকি’ৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বা’ভাবিক জীবন ফি’রে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সন্তানের নতুন করে বেঁ’চে থাকা।

মনি-মু’ক্তার মা কৃষ্ণা রাণী পাল জা’নান, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সু’স্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ২১ ফেব্রুয়ারি পার্বতীপুরে বাবার বাড়িতে আসি। কিছুদিন সেখানে থাকার পর নিজগ্রাম বীরগঞ্জ উপজে’লার পালপাড়ায় মনি-মু’ক্তাকে নিয়ে আসি। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে এবং ডা. এ আর খানের সাফল্যে আম’রা মনি মু’ক্তাকে স্বা’ভাবিকভাবে ফি’রে পেয়েছি।

তিনি বলেন, সব কষ্ট ভুলে তাদেরকে চিকি’ৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মনি-মু’ক্তা এবং পরিবারের জন্য সবার দোয়া কামনা ক’রেছেন তিনি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধনঞ্জয় পাল ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলি আকতার জা’নান, মনি-মু’ক্তা এখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। তারা লেখাপড়ায় বেশ ভালো। সহপাঠীরা তাদের খুব ভালোবাসে। মনি শান্ত হলেও মু’ক্তা বেশ চটপটে বলেও তিনি জা’নান।

মনি-মু’ক্তাদের একমাত্র বড় ভাই সজল কুমা’র পাল অনার্স তৃতীয় বর্ষে লেখাপড়া করছেন বলে জা’নিয়েছেন পরিবারের লোকজন। সূত্র: যুগান্তর