মুমিনের জন্য ফজরের নামাজে'র গু’রুত্ব অনেক বেশি। তার দিনের শুভক্ষণ শুরু হয় ফজরের নামাজে'র মাধ্যমে। যে ব্য’ক্তি যথা সময়ে ফজরের নামাজ আদা'য় ক'রে দিনের কাজ আরম্ভ ক'রে; ওই ব্য’ক্তির পরবর্তী ইবাদতগুলো যথাযথ আদা'য় ক'রা সহজ হয়।

অনেকেই আছে যারা ফজরের নামাজ আদা'য় ক’রতে পারেন না। আজানের পরও অনেকে ঘুম থেকে উঠতে পারে না। আবার অনেকে অলসতা বা অন্য কোনো কারণে ঘুম থেকে উঠতে চায় না। আবার কেউ কেউ নামাজে'র ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর ঘুম থেকে ওঠে।

ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে অনেকে আফসোস ক'রে আর বলে হায়! ফজরের নামাজ আদা'য় ক'রা হলো না।

যে বান্দা নামাজকে বেশি ভালোবাসেন অথচ ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদা'য় ক’রতে পারেন না; তারা বিষয়টি ব্য’থাভরা মনে উপলব্ধি ক'রেন। তাঁরা যেন ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার স’ঙ্গে স’ঙ্গে ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেন। সে বিষয়ে রয়েছে কিছু গু’রুত্ব পূর্ণ করণীয়-

>> রাতে ঘুমানোর সময় বিসমিল্লাহর স’ঙ্গে অজু ক'রে দুই বা ৪ রাকাআত নামাজ প’ড়ে ঘুমানো এবং ফজরের নামাজ পড়ার ব্যাপারে এভাবে দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ ক'রা যে, আমি অবশ্যই ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদা'য় করব।

>> রাত গ’ভীর না ক'রে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া। বিনা কারণে দেরিতে ঘুমানোর ফলেই যথা সময়ে ফজর আদা'য় সম্ভব হয় না।

>> ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদা'য় ক’রতে মোবাইল বা ঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাতে যাওয়া। যাতে মোবাইল বা ঘড়ির অ্যালার্মের শব্দে ফজরের সময় ঘুম ভেঙ্গে যায়।

>> ঘুমের অলসতা ত্যা’গ ক'রা জ’রুরি। অনেকেই ঘড়ি বা মোবাইলের অ্যালার্ম শুনে অথবা আজানের আওয়াজ শুনে অলসতাবশতঃ ঘুম থেকে উঠতে চায় না। আবার অনেকেই এ রকম ক'রে যে, আরেকটু ঘুমিয়ে নিই; তারপর উঠব। এ মনসিকতা পরিহার ক'রা।

>> রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম না আ'সলে হালকা দৈহিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ক'রা যেতে পারে। যাতে হালকা ব্যায়ম বা ক্লান্তির কারণে যথা সময়ে ঘুম চলে আসে।

>> প্রতিবেশীর সহযোগিতা নেয়া। যিনি নিয়মিত ফজরের জামাআত বা নামাজে অংশ গ্রহণ ক'রেন। সম্ভব হলে তাঁকে বলে রাখা যে, ফজরের নামাজে'র জন্য যেন তাকে ডাকা হয়। এটা সবচেয়ে কা’র্যকর পদ্ধতি।

>> ব'ন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদা'য় ক'রেন; তাদেরকে বলা যে, ফজরের সময় যেন, মোবাইল বা অন্য কোনোভাবে জাগিয়ে দেয়।

>> নিজে'র স’ঙ্গে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। অন্যান্য ওয়াক্তের মতো ফজরের নামাজও ফরজ। সুতরাং ফজর যেহেতু দিনের শুরুর নামাজ; তাই এ নামাজে'র গু’রুত্ব অনেক বেশি। তা যথা সময়ে পড়ার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ ক'রা।

>> রাতে ঘুমানোর সময় মৃ'ত্যুর কথা স্মরণ ক'রা। এ চেতনা হৃদয়ে জাগ্রত ক'রা যে, নামাজ না পড়া অব’স্থায় যদি মৃ'ত্যু হয় তবে প’রিণতি কী হবে? এ অনুভূতি হৃদয়ে পোষণ ক'রা।

>> যে সব কাজে'র ফলে রাতে ঘুমাতে যেতে দেরি হয় তা বর্জন ক'রা। সকালে ফজরের নামাজ যথা সময়ে আদা’য়ের পর সকালে শীতল বাতাসে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নিজে'র সুস্বা’স্থ্যের কথা চিন্তা ক'রা।

পরিশেষে… ইচ্ছা শ’ক্তি মানুষকে ক’ঠিন কাজে সফলতা হতে সাহায্য ক'রে। যারা ফজরের নামাজ জামাআতে পড়তে চায়; অন্তরে একনিষ্ঠতা থাকে; আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সাহায্য করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথা সময়ে ফজরের নামাজ আদা'য় ক'রার তাওফিক দান করুন। আমিন।