দাপটের স’ঙ্গে চলচ্চিত্রাঙ্গন ঘুরে বেড়ালেও এক সময় হারিয়ে গিয়েছেন অনেক চিত্রনায়িকা। কেউ কেউ নিজ গুণে টিকে রয়েছেন, আবার অনেকে বিয়ের পর চলচ্চিত্র ছে'ড়ে পাক্কা সংসারী হয়েছেন। ঝরে পড়া এসব তারাদের নিয়ে রাইজিংবিডির বিশেষ আয়োজন। দশম পর্বে থাকছেন চিত্রনায়িকা ময়ূরী।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নব্বই দশকের শেষের দিকে কাটপিস সিনেমা’র আগ্রাসন শুরু হয়। তখন অশ্লী’লতার যাতাকলে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা হলবিমুখ হতে শুরু ক'রেন। ঠিক ওই সময়ে ঢালিউডে ঝ’ড় তোলা চিত্রনায়িকা ময়ূরীর আগমন ঘ’টে। কাটপিস সিনেমা’র সবচেয়ে চাহি’দাসম্পন্ন চিত্রনায়িকা ময়ূরী। স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেশ কিছু অশ্লী’ল সিনেমায় দেখা গিয়েছে তাকে। পরে দেশীয় চলচ্চিত্র সু’স্থ ধারা'য় ফিরলে অন্তরালে চলে যান এই নায়িকা।

শুরুতেই জে’নে নিই ময়ূরীর চলচ্চিত্রে আগমনের গল্প। ১৯৯৮ সালে ‘মৃ'ত্যুর মুখে’ সিনেমা’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। চলচ্চিত্রে আসার আগে তার নাম ছিলো লিজা। লিজা থেকে কীভাবে ময়ূরী হলেন তা রাইজিংবিডিকে জা’নিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক মালেক আফসারি।

মালেক আফসারি বলেন, ‘‘মৃ'ত্যুর মুখে’ সিনেমা’র জন্য আমি ইলিয়াস কাঞ্চন, মুনমুনকে চুক্তিবদ্ধ ক'রাই। এর পরে কাঞ্চি নামে এক মেয়েকে এই সিনেমায় নেওয়ার কথা। সবকিছু পাকাপাকি ক'রাও হয়েছিলো। সাইনিং মানি দিতে গিয়ে তারা টাকা বেশি চেয়ে বসলো। তাকে আম’রা দেড় লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দা’বি করলো আড়াই লাখ। বিষয়টা আমা’র ভালো লাগেনি। তা'ৎক্ষণি'কভাবে তাকে বাদ দিয়ে অন্য নায়িকা নেওয়ার চিন্তা করলাম। কিন্তু কাকে নেব খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’’

‘এ সময় কোরিওগ্রাফার মাসুম বাবুল বলেন, লিজা নামে একটি মেয়ে আছে। চেহারাটা মিষ্টি। স’ঙ্গে স’ঙ্গে প্রযোজক গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। লিজা চলে আ'সলো। প্রযোজক দেখে বলেন—এত মোটা মেয়ে কীভাবে হবে। আমি বললাম, ওকেই নিতে হবে। এটাই নায়িকা। লিজার মাকে বললাম, আপনার মেয়েকে ২৫ হাজার টাকা দেব। প্রযোজককে বলে দশ হাজার টাকা দিয়ে দিলাম।’ বলেন মালেক আফসারি।

লিজা থেকে ময়ূরী হয়ে ওঠা প্রস’ঙ্গে এই নির্মাতা বলেন, ‘‘সেদিন সাইনিং ক'রানোর সময় সাংবাদিক আওলাদ বলেন, ‘লিজা নামটা কেমন জানি লাগছে।’ তখন আমি বলি কি নাম দেওয়া যায় বলেন! তখন আওলাদ বলেন, ‘ওর নাম ময়ূরী দেন। আপনার নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।’ এরপর থেকে লিজা হয়ে যায় ময়ূরী। তিনদিন পরে শু’টিংয়ে আসে ময়ূরী। বিশ্বা’স ক'রেন, ময়ূরীর প্রথম শট নিলেন মাসুম বাবুল সাহেব। নাচের শট ছিলো। প্রথম শটেই ওকে হয়ে যায়। এর পরে ময়ূরী একের পর এক সিনেমায় কাজ ক'রে যায়।’

নব্বই দশক থেকে এ পর্যন্ত ময়ূরী অভিনীত তিনশত সিনেমা মু’ক্তি পেয়েছে। মু’ক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোতে তিনি যতটা প্রশংসিত হয়েছেন তার চেয়ে বেশি স’মালোচিত হয়েছেন। নার্গিস আক্তার পরিচালিত ‘চার সতীনের ঘর’ শিরোনামের সিনেমায় অভিনয় ক'রে প্রশংসা কুড়ান ময়ূরী। তার অভিনীত সর্বশেষ মু’ক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বাংলা ভাই’।

ময়ূরী এখন চলচ্চিত্রে থেকে দূ’রে রয়েছেন। নতুন কোনো সিনেমায় তাকে আর দেখা যায় না, স্বা'মী-সংসার নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে ময়ূরী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘২০০৮ সালে চলচ্চিত্র ছে'ড়েছি। এরপর একটি চলচ্চিত্রে কাজ ক'রেছি। এখন চলচ্চিত্রে নেই। পরিবার সংসার নিয়েই আছি। আমা’র দুই সন্তান নিয়েই এখন সব ভাবনা। সুযোগ পেলে যু'ক্তরাষ্ট্রে যাই, সেখানে আমা’র ভাই থাকেন। চলচ্চিত্র নিয়ে আমা’র নতুন কোনো চিন্তা নেই।’